অ্যাকাউন্ট খোলা: সিরিজ শুরুর আগে সেরে ফেলুন

নিবন্ধনের কাজটি পাঁচ মিনিটের, কিন্তু সময়টা কখন বেছে নিচ্ছেন সেটাই আসল প্রশ্ন। বড় ম্যাচের রাতে এই কাজ শুরু করলে খেলা দেখা হয় না, আর জেতার পর যাচাইকরণে বসলে টাকাও দেরিতে আসে।

শুরুর আগে হাতের কাছে যা রাখবেন

নিবন্ধন ও যাচাইকরণ একই বসায় শেষ করতে চাইলে নথিগুলো আগে জোগাড় করে নিন। সিরিজ শুরুর কয়েক দিন আগেই এই কাজটি করা সবচেয়ে ভালো সময়।

  • সরকারি পরিচয়পত্র, যেখানে বানান পরিষ্কার পড়া যায়।
  • একটি ওয়ালেট, যেটি আপনার নিজের নামে খোলা।
  • একটি ইমেইল, যেটিতে আপনি নিয়মিত ঢোকেন।
  • নথির ছবি, ভালো আলোয় তোলা।
  • ঠিকানার প্রমাণ, যদি চাওয়া হয়।
  • একটি নতুন পাসওয়ার্ড, পুরনোটির পুনরাবৃত্তি নয়।

নামের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয়পত্র, নিবন্ধন আর ওয়ালেট, তিন জায়গায় নামের বানান হুবহু এক না হলে পেআউটের সময় অনুরোধ আটকে যায় এবং সংশোধনে কয়েক দিন চলে যায়।

ধাপে ধাপে নিবন্ধন

ফর্মটি ছোট। প্রতিটি ঘর নথির সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করুন।

  1. মোবাইল নম্বর দিয়ে ফর্মটি শুরু করুন।
  2. পাসওয়ার্ড বসানোর সময় অন্য কোনো সাইটের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না।
  3. নম্বরে আসা কোডটি বসিয়ে সেটি নিশ্চিত করুন।
  4. নামের ঘরে পরিচয়পত্রের বানানটি হুবহু তুলে দিন।
  5. জন্মতারিখের ঘরে নথির তারিখটিই বসান।
  6. ইমেইল যোগ করে সেটিও নিশ্চিত করে নিন।
  7. শর্তাবলি একবার পড়ে নিয়ে ফর্মটি জমা দিন।

নিবন্ধনের পরপরই যাচাইকরণ শুরু করুন। ম্যাচের অপেক্ষা করার দরকার নেই, বরং খেলার আগেই সব সবুজ চিহ্ন দেখে নেওয়া ভালো।

যাচাইকরণ: একবারের কাজ

পরিচয় যাচাই একবারই করতে হয়, এবং এর পরে প্রতিটি পেআউট অনেক দ্রুত হয়। নথি জমা দেওয়ার পর সাধারণত কয়েক ঘণ্টায় উত্তর আসে, তবে বড় টুর্নামেন্টের সময় সাপোর্টে চাপ বেশি থাকে বলে এক দিনও লাগতে পারে। এই কারণেই সিরিজ শুরুর আগে কাজটি সেরে রাখার পরামর্শ।

  1. প্রোফাইলের নিরাপত্তা অংশে গিয়ে যাচাইকরণে ক্লিক করুন।
  2. পরিচয়পত্রের দুই পাশ আলাদা ছবিতে তুলে দিন।
  3. ঠিকানার প্রমাণ চাইলে সাম্প্রতিক একটি কাগজ দিন।
  4. ওয়ালেট নম্বরটি প্রোফাইলে যোগ করুন।
  5. জমা দেওয়ার পর অন্য কাজে মন দিন, উত্তর নিজে থেকেই আসবে।
  • আলো কম থাকলে ছবি আবার তুলুন, ঝাপসা ছবি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  • নামের বানান নিয়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেও আগে মিলিয়ে নিন।
  • চ্যাট বা মেসেঞ্জারে কেউ নথি চাইলে দেবেন না।

যেখানে মানুষ সবচেয়ে বেশি আটকায়

নিবন্ধনের সময় যে সমস্যাগুলো বারবার ফিরে আসে, তার সমাধান সাধারণত সহজ।

সমস্যাকীভাবে সমাধান করবেন
OTP কোড আসছে নামোবাইল নেটওয়ার্কে চাপ থাকলে বার্তা দেরিতে ঢোকে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চান, আর ইনবক্সে জায়গা আছে কি না দেখে নিন।
মোবাইল নম্বর ইতিমধ্যে রেজিস্টার্ডনম্বরটিতে সম্ভবত আগেই একটি অ্যাকাউন্ট আছে। নতুন করে না খুলে পুরনোটি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাটি ব্যবহার করুন।
পেজ লোড হচ্ছে না বা বাটন কাজ করছে নাপাতাটি একবার রিফ্রেশ করুন। কাজ না হলে ব্রাউজারের সঞ্চিত তথ্য মুছে দিন বা অন্য একটি ব্রাউজার খুলে দেখুন।
KYC নথি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেছবিটি আবার তুলুন, যেন নথির চার কোণা ও লেখা স্পষ্ট থাকে। নামের বানান আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে না মিললে আবার ফেরত আসবে।
শর্তাবলী মেনে নেওয়া যাচ্ছে নানিচের চেকবক্স দুটি খেয়াল করুন। বয়স ঘোষণার ঘরে টিক না পড়লে ফর্মটি এগোবে না।

এর কোনোটিই টাকার সমস্যা নয়, কেবল সময়ের। কিন্তু ম্যাচের দিনে সময় নষ্ট হওয়ার খরচ আলাদা, কারণ ততক্ষণে অডস বদলে যায় এবং তাড়াহুড়োয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এরপর: প্রথম ডিপোজিট ও প্রথম ম্যাচ

অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে প্রথম ম্যাচে নামার আগে এই কাজগুলো সেরে নিন।

  • প্রথম ডিপোজিটের চ্যানেলটি ভেবে বেছে নিন, কারণ ফেরতও সেই পথেই আসবে।
  • শুরুতে ছোট অঙ্ক দিয়ে গোটা চক্রটি একবার ঘুরিয়ে দেখুন।
  • প্রথম বাজির জন্য এমন মার্কেট নিন যার নিয়ম এক লাইনে বোঝা যায়।
  • সপ্তাহে কতগুলো ম্যাচে থাকবেন, সেই সংখ্যাটি লিখে রাখুন।
  • ম্যাচ শেষ হলে ব্যালেন্স ফেলে না রেখে তুলে নিন।

প্রথম ম্যাচে একটি সরল মার্কেট বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো শুরু, কারণ সেখানে সেটেলমেন্টের নিয়ম নিয়ে দ্বিধা কম। ছোট অঙ্ক দিয়ে পুরো চক্রটি একবার ঘুরিয়ে দেখলে যাচাইকরণ, নাম মিল আর পেআউট সব একসঙ্গে পরীক্ষা হয়ে যায়। মনে রাখবেন, অডসের ভেতরে বসানো মার্জিনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে বুকমেকারই এগিয়ে থাকে, তাই যে টাকা হারালে অসুবিধা হবে সেটি কখনো বাজিতে দেবেন না। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অ্যাকাউন্ট খুলতে বয়স কত লাগে?

কমপক্ষে ১৮ বছর। যাচাইকরণে জন্মতারিখ নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর না মিললে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং জমা টাকা তোলা যায় না।

নিবন্ধন করতে টাকা লাগে?

না, নিবন্ধন ও যাচাইকরণ দুটোই খরচহীন। সিরিজ শুরুর আগেই এই দুটি কাজ সেরে ফেলা যায়, আর সেটাই সবচেয়ে কাজের ক্রম।

যাচাইকরণে কত সময় লাগে?

সাধারণত কয়েক ঘণ্টা। বড় টুর্নামেন্ট চলাকালীন সাপোর্টে চাপ বেশি থাকে বলে এক দিনও লাগতে পারে, আর এই কারণেই আগেভাগে করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কী কী নথি লাগে?

জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, নিজের নামে থাকা ওয়ালেট নম্বর, আর কখনো ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক একটি বিল। তিন জায়গায় নাম একই হতে হবে।

একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে?

না। একের বেশি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেলে সবগুলোই বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ব্যালেন্স আটকে যায়। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাটি ব্যবহার করুন।

নাম নিয়ে এত জোর কেন?

কারণ পেআউটের পুরো প্রক্রিয়াটি নাম মেলানোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। পরিচয়পত্র, নিবন্ধন ও ওয়ালেট, তিন জায়গায় নাম এক না হলে টাকা তোলার অনুরোধ আটকে যায়, আর সেটি সাধারণত জানা যায় ম্যাচ জেতার ঠিক পরে।

DARAZPLAY-এ খেলার জন্য প্রস্তুত?

এক মিনিটেরও কম সময়ে রেজিস্টার করুন, bKash-এ ডিপোজিট করুন এবং স্বাগতম বোনাস নিন।

রেজিস্ট্রেশন গাইড

আরও দেখুন